মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : রংপুরের তারাগঞ্জে দীর্ঘদিনেও সংস্কার করা হয়নি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। তিনজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও সব পদ শূন্য। একজন অফিস সহকারী (এলএমএফ করা পল্লী চকিৎসক/ দন্ত চিকিৎসক) সব রোগের চিকিৎসা দেন।

শুক্রবার ১১ জুন সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে তারাগঞ্জের স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বেহাল দশা। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে। তা দিয়ে পানি পড়ে কক্ষে। দীর্ঘদিনেও সংস্কার করা হয়নি। ৪৫ বছর আগে তৈরি একতলা ভবনের পেছনের অংশের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।

জং ধরেছে টিনের চালে, কয়েক জায়গায় ফুটো তৈরি হওয়ায় মেঝেতে পড়ে বৃষ্টির পানি। দরজা-জানালার কোথাও ভাঙা, নেই শৌচাগার ও পানির ব্যবস্থা। তিনজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও সব পদ শূন্য।

একজন অফিস সহকারী (এলএমএফ করা পল্লী চকিৎসক/ দন্ত চিকিৎসক) সব রোগের চিকিৎসা দেন। এমন দশা রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির। অথচ এই কেন্দ্র থেকে ৩০ হাজার মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার কথা।

উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবস্থান রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নে। এমন ভবনের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য নিয়োগ পাওয়া এক অফিস সহকারী (এলএমএফ করা পল্লী চকিৎসক)।

তারাগঞ্জ কুর্শা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের (এলএমএফ করা পল্লী চকিৎসক) আজিজুল হক বলেন, এই কেন্দ্রে তিনিই চিকিৎসক, তিনিই ফার্মাসিস্ট।

প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী সেবা নিতে আসেন। একা চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয় তাকে।

বৃহস্পতিবার ১০ জুন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসা নিতে আসা থানাপাড়া গ্রামের আঞ্জুয়ারা খাতুন (৩৫) বলেন, ‘পাঁচ বছরেও মুই এটে কোনা ডাক্তার দেখনু না। ওষুধ চাইলেও পাওয়া যায় না। যেটা হামার কোনো উপকারত আইসে না।’

চিকিৎসা নিতে আসা আর এক বৃদ্ধা সকিনা বেওয়া (৬৫) জানান, ‘কি কমু বাবা হামরা এটি কোনা কোন চিকিৎসা পাওছিনা, এটা গ্রামত থুইয়্যা লাভ নাই, সরকারক। এটা নিয়ে যাবার কন।’

১৯৭৫ সালে স্থাপিত এ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, চিকিৎসক সহকারী, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহকারী থাকার কথা। কিন্তু চারটি পদই শূন্য।

দৌলতপুর গ্রামের সুলতানা খাতুন (৩৩) বলেন, ‘মুই তো অনেক দিন থাকি এটে কোনা চিকিৎসা নিবার আইসোং। হামাক ওষুধ, চিকিৎসা দেয় পিয়ন আর একটা স্যার। শুনছি ওই স্যার দাঁতের চিকিৎসা দেওয়া স্যার।’

ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আরেক গৃহবধূ নাজমা খাতুন (২৮) বলেন, ‘সাত দিন থাকি জ্বর, কোমর ব্যথা। ডাক্তার দেখাপার তকনে এটে কোনা আলছুনু, কিন্তু ডাক্তার দেখপার পানু না। যায় আছে তায় মোক রংপুরোত চিকিৎসা নিবার যাবার কইল। কিন্তু মুই তো গরিব মানুষ, রংপুরোত যাবার টাকা কোনটে পাইম।’

কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে চিকিৎসক না থাকার বিষয়টি সত্যি দুঃখজনক। যাদের একটু অবস্থা ভালো, তারা এখানে আসেন না। গরিব মানুষ বাধ্য হয়ে গেলেও চিকিৎসক না থাকায় সুচিকিৎসা পান না।

উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছা. শামছুন্নাহার বলেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।