মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, নোয়াখালী : নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলার হাতিয়া পৌরসভায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। দুর্ভোগে পোহাচ্ছে ৬৫ হাজার মানুষ। এ পৌরসভায় নাগরিক সুযোগ সুবিধা শূন্যের কোটায়। পৌর এলাকার রাস্তা, উন্নত স্যানিটেশন, সুপেয় পানি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। জম্ম-মৃত্যু সনদ, ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া পৌর এলাকায় নেই কোন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা। সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী।

২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাতিয়া পৌরসভা গঠনের ঘোষণা দেন। ২০০৫ সালে ৩৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত হয় হাতিয়া পৌরসভা। এর পর ৫ বছর চলে ইউএনও স্থানীয় প্রশাসক দিয়ে। ২০১১ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বচনে একেএম ইউছুফ আলী মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি দ্বিতীয়বারের মত দায়িত্বপালন করছেন। তৃতীয় শ্রেণীর এ পৌরসভাটি চর ঈশ্বরায়, তমরুদ্দি, বুড়িরচর, লক্ষ্মীদিয়া ও গুল্লাখালিসহ ৫টি মৌজায় ৯ টি ওর্য়াড রয়েছে। এতে ৬৫ হাজার মানুষের বসবাস। হোল্ডিং রয়েছে প্রায় ১০ হাজার। সড়ক রয়েছে ৪৪০ কিলোমিটার। এরমধ্যে ৩৩০ কিলোমিটারই কাচাঁ সড়ক। বর্তমানে কাচাঁ,আধাকাাঁচা ও পাকা সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী। সড়কগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ১ নং ও ২নং ওয়ার্ডেসহ প্রায় ৯৫ শতাংশ সড়কেরই বেহালদশা। ফলে দীর্ঘদিন থেকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হাজারো মানুষ। যানবাহন চলতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনাও ঘটছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বছরের অধিকাংশ সময় হাজারো পর্যটকের আগমন হলেও এখানের যাতায়ত ব্যাবস্থার নেই কোন সুব্যবস্থা। পৌরসভাটির অধিকাংশ রাস্তা ঘাট চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় স্থানীয়দের দৈনন্দিন যাতায়তে দুর্ভোগের অন্ত নেই।

জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কাগজে কলমে ৬ কিলোমিটার পাকা ড্রেন ও ২০ কিলোমিটার কাঁচা ড্রেন রয়েছে কিন্তুু বাস্তবে শহরে সামন্য ড্রেন দেখা গেলেও কাঁচা ড্রেনের অস্তিত্ব নেই। ওই সামান্য ড্রেনগুলো আর্বজনায় ভরা। খালগুলো ভরাট হয়ে নাজুক অবস্থায় পরিণত হয়েছে।ফলে বর্ষা এলেই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। বর্ষাকালে রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ায় জনগনের চলাচল ও শীক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতেও বেগ পেতে হয়।

সম্পত্তি হস্তান্তর, হোল্ডিং ট্যাক্স, ইজারা, বিভিন্ন সনদ ফি আদায় হলেও পৌর এলাকায় নেই কোন উন্নয়ন। সরকারী বরাদ্দ ও পৌর সভার আদায়কৃত অর্থ কোথায় যায় তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পৌরসভার নেই কোন ভবন। উপজেলা ভুমি অফিসের পরিত্যক্ত একটি টিনশেড ঘরে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম। পৌর ভবন নির্মানের জন্য ৭৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসলেও ভূমি ক্রয় জটিলতার কারনে তা নির্মাণ যাচ্ছে না। বরাদ্দের টাকাগুলো পৌর ফান্ডে জমা রয়েছে। ভবন না থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। ছোট একটি টিন শেডে জায়গার সংকুলানও হচ্ছে না।

এদিকে পৌর এলাকায় আর্বজনা ফেলার নেই কোন নিদ্দিষ্ট স্থান। নেই কোন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকে।ফলে পৌর এলাকার মানুষ নানা রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। পৌর এলাকায় ৪ টি বাজার থাকলেও নেই কোন গণশৌচাগার। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্থাপিত কয়েকটি ডিপটিউবওয়েল থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় পৌর এলাকার লোকজন অস্বাস্থ্যকর পানি পান করেই জীবন-যাপন করছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও নাজুক।দিনের বেশীর ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে মানুষ দৈনন্দিন কাজর্কম করতে হিমশিম খাচ্ছে।পৌর এলাকায় নেই কোন সড়ক বাতি সন্ধ্যার পরই ভুতুড়ে পরিবেশের সৃস্টি হয়। এদিকে চলতি অর্থ বছরে কোন বাজেট ঘোষণা করা হয়নি। এতে জনমতে বিরুপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমান চেয়ারম্যান একেএম ইউছুফ আলীর বিরদ্ধে সুপেয় পানি সরবরাহের ৪০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।শুধু তাই নয় ময়লা আর্বজনা ফেলার ২টি ট্রাক তিনি ভাড়া দিয়ে দিয়েছেন।
পৌর এলাকার অনেক বাসিন্দা জানান,শুধু নামেই হাতিয়া পৌরসভা। এতে নাগরিক সুযোগ সুবিধা নেই। পৌর এলাকার বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র। তাদের বেশীর ভাগেরই পেশা কৃষি। পৌরসভা গঠনের পর থেকে এলাকার কৃষকরা সরকারী অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাচ্ছে না পৌরসভা থেকে কোন সুযোগ-সুবিধা।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফ উদ্দিন বলেন, পৌরসভায় ব্যাপক দুর্নীতি চলছে। উন্নয়ন বরাদ্দের অধিকাংশ লুটপাট চলছে। তাই পৌরসভায় উন্নয়ন হচ্ছেনা। তিনি আরো অভিযোগ করেন গভীর নলকুপ স্থাপনের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পৌর মেয়র একে এম ইউছুফ আলী তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি মহল অপ্রচার করছে।