এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে আরো তিন দিন আগে। তবু যাত্রীর চাপ কমছে না দৌলতদিয়া ঘাটে। অবস্থা দেখে মনে হয় সোমবার সকাল থেকেই যাত্রীর ঢল নেমেছে দৌলদিয়া ঘাটে। তিল ধারনের ঠাই নেই ফেরি ও লঞ্চে।

যাত্রীর চাপে গত এক সপ্তাহ ধরে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে বাস ও ট্রাক ঠিকমত উঠতে ও নামতে পারছে না। ফলে এ নৌপথে যথেষ্ট ফেরি থাকলেও প্রতিদনই ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মূল রাস্তায় ৬/৭ কিলোমিটার জুড়ে বাস, ট্রাক ও ছোট গাড়ির দীর্ঘ সিরিয়াল পড়ছে।

সোমবার সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ঘাটে লঞ্চ ও ফেরিতে ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল নামে। রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ সিরিয়াল পড়ায় যাত্রীবাহি বাস রেখে অধিকাংশ যাত্রী ভেঙে ভেঙে হেঁটে বা অটোতে অতিরিক্ত ভাড়ায় ফেরি ঘাটে আসছে।

ঘাটের পন্টুনে অপেক্ষা করে ফেরি ভিড়ার সাথ সাথেই হাজার হাজার যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে যে যেভাবে পারছে ফেরিতে উঠছে। যাত্রীর চাপে ফেরিতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।

তবে প্রতিদিন ভোরের দিকে যাত্রীর চাপ কম থাকে। তখন ফেরিতে প্রচুর গাড়ি পার হয়।

সোমবার দুপুর ১টার দিকে দৌলতদিয়দা ৫নং ফেরিঘাটে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসে বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিন ফেরী। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিটি ভেড়ার আগেই হাজার হাজার যাত্রী দৌড়ে, লাফিয়ে যে যেভাবে পারে ফেরিতে উঠতে শুরু করে। এতে ফেরিতে থাকা যানবাহগুলো নামতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। মাত্র দুটি গাড়ি ছাড়া সবই ছিল যাত্রীতে পরিপূর্ণ।

বিআইড‌ব্লিউ‌টি‌সির দৌলত‌দিয়া ঘাট শাখার ব্যাবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান জানান, দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ২০টি ফেরি চলছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার অ‌ফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার মজুমদার জানান, দৌলত‌দিয়া ফে‌রিঘাট এলাকায় যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক পু‌লিশ সদস্য কাজ কর‌ছেন।

তিনি আরো জানান, গত পাচ দিন যাবত এ ঘাট দিয়ে প্রতিদন ফেরি ও লঞ্চে দুই লাখের বেশি যাত্রী পার হচ্ছে। আর কত দিন এ রকম ঢাকামুখি যাত্রীর চাপ থাকবে তা বলা যাচ্ছে না।

প্রতিটি ফেরিতেই যাত্রীর চাপে ফেরিতে যেন তিল ধারনের ঠাঁই থাকে না। তবে যাত্রী পার করে বিআইডাব্লিউটিসির আয়ও হচ্ছে প্রচুর।