ফাইল ছবি

বান্দরবান সংবাদদাতা : ঈদের ছুটিতে বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো এখন পর্যটকে পরিপূর্ণ।

নদী, পাহাড় ও ঝরনা একই জায়গায় দেখতে পর্যটকদের প্রথম পছন্দের জায়গা বান্দরবান।

হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির তথ্য মতে, বান্দরবানে ৭০টিরও অধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট আছে। এগুলোতে পর্যটকের ধারণক্ষমতা পাঁচ হাজারেরও অধিক।

এদিকে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে পর্যটন ব্যবসায় যে ক্ষতি হয়েছিল তা পোষানো যায়নি। ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যে পরিমাণ পর্যটক এসেছেন এবং আরো আসবেন তাতে ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া যাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্র নীলাচল ও মেঘলায় গিয়ে দেখা যায়, পর্যটনকেন্দ্র দুটিতে পর্যটকের ভীড়। মেঘলায় কেউ চড়ছেন ক্যাবল কারে, কেউ লেকে কায়াকিং নিয়ে ভাসছেন, আবার কেউ ঝুলন্ত ব্রীজে দাঁড়িয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছবি তুলছেন।

এ ছাড়াও নীলাচলের প্রথম গেইটে দেখা যায় গাড়ির জটলা। পর্যটকরা একে একে টিকিট কেটে ভিতরে প্রবেশ করছেন। ঘুড়ছেন পর্যটনকেন্দ্রের চারপাশ, তুলছেন শখের ছবি।

স্থানীয় চালকরা জানান, সকালের দিকে পর্যটকের শৈলপ্রপাত, চিম্বুকে ভীড় করছেন। আর বিকেল হলে জেলা শহরের নীলাচল এবং মেঘলা পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকের উপচে পড়া ভীড় থাকে।

নীলাচলে পরিবার পরিজনদের সাথে ঘুরতে আসা এক ছাত্রী জানান, এখানে অনেক সুন্দর লাগছে। মনে হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়টুকু কাটাচ্ছি। এখানের আঁকা-বাঁকা পথ, পাহাড় আর ছোট-ছোট ঘর দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। ঈদটা অনেক ভালো কাটছে এখানে এসে।

নীলাচলে ঘুরতে আসা শিক্ষিকা খালেদা আক্তার জানান, বিভিন্ন স্পট ঘুরেছি। মেঘ মাটি একসাথে দেখেছি। অনেক ভালো লাগছে। এত সুন্দর কখনো আশা করিনি।

বান্দরবানের হিলভিউ হোটেলের ব্যবস্থাপক আক্কাস উদ্দিন বলেছেন, হোটেলে পর্যটকের চাপ আছে। হোটেলের প্রায় সব কক্ষগুলো ভাড়া হয়ে গেছে।

এদিকে বান্দরবানের হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যটন কেন্দ্রগুলো পর্যটকে ভরপুর। ২০২০ সালে করোনার কারণে কোন ব্যবসা হয়নি। তবে ২০২১ সালের শেষের দিকে করোনার বিধি-নিষেধ উঠে যাওয়ায় কিছুটা ব্যবসা হয়েছে। তবে এবারের লম্বা ছুটিতে ২০২০ সালের যে করোনার ক্ষতি তা এ ঈদের মৌসুমে পর্যটকের আগমনে অনেকটা ব্যবসায়িক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।

এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। বান্দরবানের পুলিশ সুপার জেরিন আক্তার জানান, ঈদের এ মৌসুমে প্রচুর পর্যটক থাকে। পর্যটকদের কথা চিন্তা করে ট্যুরিস্ট পুলিশে সাথে আলাদা পুলিশ মোতায়েন করা থাকে। এখনো পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি জানান, ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন ৪-৫ হাজার পর্যটক বান্দরবানে আসছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় হোটেল-মোটেল, থানায় চিঠি দেয়া হয়েছে। কোন সমস্যা দেখা দিলে সাথে সাথে যেন সংশ্লিষ্টদের রিপোর্ট করে।