সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তঘেষা সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে এবারের ঈদুল ফিতরে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নেমেছে।

ঈদের দিন মঙ্গলবার দুপুর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে থেকে তাহিরপুরে অতীতের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ ভ্রমণকারীর আগমন ঘটেছে বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিস্টরা।

দেশের অন্য এলাকা ছাড়াও স্থানীয় লোকজনও পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘুরে বেড়িয়েছেন তাহিরপুরের জাদুকাটা-মাহারাম সীমান্তনদীর মোহনায় থাকা জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান, জাদুকাটা নদী, বারিক্কার টিলা, টেকেরঘাটের শহীদ সিরাজ লেক, লাকমা ছড়া ও টাঙ্গুয়ার হাওরের নীল জলরাশীর বুকে।

গত দুই বছর করোনাভাইরাসের কারণে ঈদসহ বিভিন্ন সময়ে হাওর সীমান্ত জনপদ ঘেষা তাহিরপুরে ভ্রমণের উপযোগি দর্শনীয় স্থান গুলোতে যাতায়াতে ছিলো নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু এবার তা নেই। তাই এবার তাহিরপুরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভ্রশণ পিপাসুরা হয়ে উঠেছেন অনকটাই বাঁধনহারা।

ঈদের আগেই সংশ্লিষ্টরা তাদের ধারণা জানিয়ে বলেছিলেন- পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে তাহিরপুরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভ্রমণকারীদের উপচেপড়া ভিড় থাকবে। ঈদের দিন মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী চার দিন (বুধ থেকে শনিবার পর্যন্ত) দেশের অন্যান্য স্থান থেকে আগত ও স্থানীয় ভ্রশণকারীগণ সহ প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার ভ্রশণপিপাসুদের যাতায়াত থাকবে দর্শনীয় স্থান গুলোতে। সে অনুযায়ী শুধু ।দিুল ফিতরেই লক্ষাধিক ভ্রমণকারী উপস্থিতি থাকছে।

এই সময়ে তাহিরপুওে থাকা আবাসিক হোটেল, খাবার দোকান, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক, ইঞ্জিন চালিত নৌযান, স্পীডবোট, খেয়া নৌকার মালিক-শ্রমিক, বাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি চালিত অটো রিক্সা মালিক-শ্রমিক সহ নানা খাতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, তাহিরপুর সহ এ দর্শনীয় স্থান গুলোতে যাতায়াতকারী ভ্রমণ পিপাসুদেও নিকট হতে কয়েক কোটি টাকা আয় রোজগার হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ভ্রশণকারী তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর, জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান,জাদুকাটা নদী,বারিক্কার টিলা,টেকেরঘাট শহীদ সিরাজ লেক, লাকমা ছড়ায় প্রকৃতিরটানে ছুটে এসেছেন।

ইতিমধ্যে তাহিরপুর উপজেলা সদর,টাঙ্গুয়ার হাওর তীরবর্তী গোলাবাড়ি, বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট, বড়ছড়া শুল্ক ষ্টেশনে থাকা কয়েকটি আবাসিক হোটেল ঈদের দিন সকাল থেকেই অবস্থান করছেন ভ্রশণকারীগণ।

বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার মিরপুর মাটিকাটা ক্যান্টমেন্ট এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে তাহিরপুরের দর্শনীয় স্থান গুলোতে ভ্রমণে আসা মিয়া মোস্তফা রোমান ও জ্যোতি ইসলাম দম্পতির সাথে আলাপকালে তারা জানান, ঈদের ছুটি কাটাতে তাহিরপুরের হাওর সীমন্ত জনপদের দর্শনীয় স্থান গুলো দেখতে আমরা প্রকৃতির টানে ছুটে এলাম এবং দেখে তৃপ্ত হলাম।

ভ্রমণপিপাসুদের যাতায়াত কাজে নিয়োজিত পরিবহন শ্রমিক সিদ্দিকুর রহমান জানান ,তাহিরপুরের দর্শনীয়স্থান গুলোকে ঘিরে ভ্রমণকারীদের ভিড় থাকবে শনিবার পর্যন্ত।

সুনামগঞ্জ জেল প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম জানান, ভ্রশণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া আছে।