ছবি: সংগৃহীত

সিলেট সংবাদদাতা : ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। ঈদের দিন মঙ্গলবার বিকেল থেকে বুধবার ঈদের পর দিনও সিলেট নগরী ও এর বাহিরে প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়।

সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো ভারতের মেঘালয় পাহাড় ঘেঁষা প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি প্রকৃতি কন্যা হিসেবে খ্যাত সিলেটের জাফলং, পান্তুমাই’র ঝর্ণা, বিছনাকান্দির স্বচ্ছ-সফেদ পানি আর সোয়াম্প ফরেস্ট খ্যাত রাতারগুল, ভোলাগঞ্জের জিরো লাইনে সাদা পাথরের অপরূপ দৃশ্য এক নজর দেখতে প্রকৃতি প্রেমিদের টানে ছুটে আসা মানুষগুলোর বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রগুলো পরিনত হয়েছে পর্যটকদের মিলন মেলায়। পর্যটন স্পটে পর্যটকদের ভিড় ছিল দেখার মতো।

এ ছাড়াও হযরত শাহজালাল (র.) ও শাহপরান (রঃ) মাজারের পাশাপাশি সিলেট নগরীর বিভিন্ন পার্কগুলোতে দল বেঁধে গাড়ি নিয়ে ছুটে আসছেন সিলেটের স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পর্যটকরা।

সিলেটের সবকটি হোটেল-মোটেল পর্যটকদের সেবায় ব্যস্ত রয়েছে।

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর সরকারি বিধি-নিষেধের কারণে সারাদেশের মতো সিলেটের পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ ছিল। যার ফলে সিলেটসহ দেশের অন্যস্থান থেকে পর্যটন স্পটগুলোতে আসতে পারেননি ভ্রমণ পিপাসুরা। কিন্তু এবার কোনো ধরণের বিধি নিষেধ না থাকায় প্রাণের উচ্ছ্বাসে প্রকৃতির টানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঈদের ছুটি কাটাতে সিলেটে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

ঢাকার থেকে ঈদের ছুটি কাটাতে ঈদের দিন দিবাগত রাতে স্বপরিবারে সিলেটে এসেছেন ব্যাবসায়ী হাজী মোঃ আজিম।

তিনি জানান, ঈদের ছুটির সুযোগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিলেট ঘুরতে এসেছেন। বুধবার সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা বিছানাকান্দি ঘুরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখে তারা সবাই খুবই খুশি। একে একে তিনি সিলেটের বাকি পর্যটন কেন্দ্রগুলোও ঘুরে দেখার ইচ্চা পোষণ করেন। তিনি পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের যাতায়াতে প্রশাসনের আরও নজরদারী বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে, সিলেট জেলার পর্যটনকেন্দ্র ও জনসমাগমস্থল চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব কেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে কাজ করছে জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাদাপোশাকেও গোয়েন্দা পুলিশ নিযুক্ত রয়েছে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেটের সুপার মো. আলতাফ হোসেন পিপিএম বলেন, ঈদ উপলক্ষে ঈদ পরবর্তী আরো ৪ দিন সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় স্থানীয় পর্যটকসহ গড়ে ৮ লাখ পর্যটক উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হয়েছে। এ জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের সতর্কতার জন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নির্দেশনামূলক ফেস্টুন লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার জন্য পর্যটকদের পানিতে নামার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।