ঈদকে ঘিরে টুপির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা 

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে জমজমাট টুপি, জায়নামাজ ও আতরের দোকানগুলো। অন্যান্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বিক্রি হচ্ছে এসব সামগ্রী।

মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলোতে এসব টুপি, জায়নামাজ, আতর, তজবিসহ নানান সামগ্রী। ঈদকে ঘিরে করে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে টুপি ও আতর। অন্যান্য সময়ের তুলনায় দোকানিদের ভালো বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত দুই বছর সেভাবে ব্যবসা না হলেও এবার বেচাকেনা ভালো। গত সপ্তাহ থেকে ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটা শুরু হয়েছে। এই এক সপ্তাহে অন্যান্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বিক্রি হচ্ছে।

ঈদের কেনাকাটা প্রায় শেষ। এখন বাকি টুকিটাকি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। শেষ মহুর্তের ‘ফাইনাল টাচ’ বলতে আতর, তসবি, টুপি, জায়নামাজ কেনাকাটা। এসব না হলে ঈদের পরিপূর্ণতা অনেকটা না হওয়ার মতো। নতুন জামা-কাপড় পরে সকালে নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে সুগন্ধি আতর লাগিয়ে ঈদগাহে যাওয়া হয়। ঈদগাহে নামাজ পড়তে হাতে থাকে জায়নামাজ।

মিরসরাইয়ের প্রায় সব বাজারের দোকানগুলোতে চলছে নানা ধরনের সুগন্ধি বিকিকিনি। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং দুইটি পৌরসভার প্রায় প্রতিটি বাজারে ব্যবসায়ীরা টুপি, আতর, জায়নামাজ বিক্রির জন্য পসরা সাজিয়ে বসেছেন। ধনী-গরিব সব শ্রেণীর মানুষ এখন আতর, টুপি ও প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ কেনাকাটায় ব্যস্ত। ফুটপাতে মাইকে চটকদার বিজ্ঞাপন বাজিয়ে আতর, গোলাপ, টুপি বিক্রি করছে। নিম্ন আয়ের লোকজন এসব ভাসমান দোকানগুলো ভিড় করতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া সব বয়সের ক্রেতাদের চাহিদাকে মাথায় রেখে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলোতে সাজানো রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের সুগন্ধির পসরা। উপজেলার সব ক’টি মার্কেটে প্রসাধনীর সাথে নানা ধরনের সুগন্ধির সম্ভার সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।

শুধু বড় বড় বিপণি বিতান নয়, ফুটপাথের দোকানে দোকানেও এখন আতর-টুপি-জায়নামাজ কেনার ভিড় দেখা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মসজিদের সামনেও পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।

আকর্ষণীয় নকশা আর নানা কারুকার্যে সুসজ্জিত টুপির প্রতি ঝোঁক রয়েছে বেশি। দোকানিরা জানালেন, নকশা ও কারুকার্যের টুপির প্রতি ক্রেতা আকর্ষণ বেশি। এবার বিদেশি টুপির চেয়ে দেশি টুপি বেশি কিনছেন ক্রেতারা। দাম গোল টুপি ৫০ থেকে ৫ শ’ টাকা, সোনালি সুতার কারুকাজ করা টুপি ৮ শ’ থেকে এক হাজার টাকা, পুঁতির কারুকাজ করা টুপি দুই ে থেকে ৩ শ’ টাকা, বাচ্চাদের চুমকি বসানো টুপি ৮০ থেকে ২ শ’ টাকা, জালের তৈরি টুপি এবং সাধারণ টুপি পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ১শ’২০ টাকার মধ্যে।

সাধারণত ঈদেই আতরের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। ঈদের দিন মনমাতানো সুরভিতে চারপাশ সুবাসিত করতে আতরের বিকল্প নেই। ঈদকে সামনে রেখে সৌদি আরব, ফ্রান্স ও ভারত থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আতর এসেছে এবারের ঈদ বাজারে। বিদেশি আতরের পাশাপাশি দেশি আতরের চাহিদাও রয়েছে বেশ। এবার বেশি বিক্রি হচ্ছে ফুলের হালকা সুগন্ধযুক্ত আতর। আতরের দাম ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, আম্বার কস্তুরি আতর পাওয়া যাচ্ছে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। আর দেশীয় সাধারণ আতর পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৪ শ’ টাকার মধ্যে।

মিরসরাই সদরের নুর মাইক সার্ভিসে টুপি বিক্রেতা অলিউল্লাহ মামুন জানান, এবারের ঈদে আমি প্রায় ৩ লক্ষ টাকার টুপি আতর কিনেছি বিক্রির জন্য। তবে এখনো ভালো বিক্রি হচ্ছে না। আশা করছি ঈদের আগের দিন ও রাতে আরো বেশি ভালো বিক্রি করতে পারবো।