খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে তারা রাশিয়ার দিক থেকে বেশ তীব্র আক্রমণের মুখে আছেন এবং প্রতিদিন তাদের অন্তত ১০০ থেকে ২০০ সৈন্য লড়াইয়ে নিহত হচ্ছে। আহত হচ্ছে প্রায় পাঁচশয়ের মতো সৈন্য।

তবে ইউক্রনের প্রেসিডেন্টের একজন উপদেষ্টা মিখাইলো পদোলিয়াক বলছেন, প্রতিদিন নিহতের সংখ্যা আরো বেশি।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অলেক্সি রেজনিকভ বলেছেন, পোল্যান্ডের কাছ থেকে তারা যে বিশেষ ধরনের হাউয়িৎযার কামান পেয়েছে তা যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এখন অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি তৈরি রাখা হয়েছে।

কিন্তু তিনি বলেছেন, তাদের জরুরি ভিত্তিতে এবং দ্রুত আরো ভারি অস্ত্রশস্ত্রের প্রয়োজন।

উপদেষ্টা মিখাইলো পদোলিয়াক বলেছেন, রাশিয়ার গোলাবর্ষণ ঠেকাতে এবং তাদের শক্তির সাথে পাল্লা দিতে বিভিন্ন পাল্লার রকেট ছুঁড়তে সক্ষম এমন অন্তত ৩০০ সমরাস্ত্র তাদের দরকার।

ইউক্রেনের যুদ্ধ এখনও কেন্দ্রীভূত রয়েছে ডনবাস অঞ্চলে- আরো সুনির্দিষ্টভাবে সেভেরোদোনেৎস্ক শহরে।

সেভেরোদোনেৎস্কে ইউক্রেন বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা বলা হচ্ছে। সেখানে লড়াই চলছে রাস্তায় রাস্তায় এবং ইউক্রেন বাহিনী তুমুল গোলাবর্ষণের মুখে রয়েছে।

লুহানস্কের গভর্নর সেরহি হাইদাই বলেছেন, রুশ আক্রমণের মুখে ইউক্রেনীয় সৈন্যরা শহর থেকে পিছু হঠে শহরের উপকণ্ঠে সরে গেছে।

তিনি একথাও বলছেন যে এলাকার ৯০ শতাংশের বেশি এখন রাশিয়ার দখলে, যদিও তিনি বলছেন, শহরটি সাময়িকভাবে রাশিয়ার দখলে।

তবে শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান দাবি করেছেন, সেখানে লড়াই কঠিন হয়ে উঠলেও তার সৈন্যরা এখনও শহরের শিল্প এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

সামরিক প্রশাসনের প্রধান অলেকসান্ডার স্ট্রিউক বলেছেন, লড়াই কঠিন কিন্তু তারা এখনও প্রতিহত করতে সক্ষম।

তবে তিনি একথা স্বীকার করেছেন যে সেভেরোদোনেৎস্কে এখনও যারা আটকা পড়ে আছে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাবার পরিস্থিতি নেই।

এদিকে, জাতিসংঘে মস্কোর রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনযিয়া বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ডনবাসে রাশিয়ার অগ্রগতি সন্তোষজনক এবং খুব শিগগিরি রাশিয়া দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক এলাকার পুরো দখল নেবে।

মার্চের শেষের দিকে যখন রাশিয়ার সেনারা রাজধানী কিয়েভের আশপাশ থেকে পিছু হটে, তখন যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু পূর্ব ইউক্রেনের দিকে সরে যায়। – বিবিসি