খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিশা শহরে মঙ্গলবার নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে এখনো পর্যন্ত একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি ভবন লক্ষ্য করে কমপক্ষে ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। – বিবিসি

উদ্ধারকর্মীরা প্রায় ১০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া একটি আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

জাপোরিশার আঞ্চলিক গভর্নরের একটি টেলিগ্রাম পোস্ট থেকে জানা যায়, এতে একটি স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মস্কো এখনো এ ঘটনায় কোন মন্তব্য করেনি।

এর আগে ইউক্রেনে মঙ্গলবার সকালেও বিমান হামলার সতর্ক সংকেত হিসেবে বাজানো সাইরেন বাজানোর শব্দ শোনা গেছে। বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিয়েছেন বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।

রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানীসহ আরো বেশ কিছু এলাকা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পরের দিনই বোমা হামলার এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে সোমবার রাশিয়ার ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ইউক্রেনজুড়ে আরো ১০৫ জন আহত হয়েছে বলেও জানানো হয়।

বিবিসির প্রতিনিধি হুগো বাচেগা যিনি গতকাল রাশিয়ার হামলার সময়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি জানান, মঙ্গলবারও হামলার আশঙ্কায় কিয়েভের একটি ভূগর্ভস্থ গাড়ি পার্কিং এলাকা থেকে খবর প্রচার করছেন।

মঙ্গলবার সকালে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী আরো চারটি রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরিই ইহনাত।

ইউক্রেনের বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে মি. ইহনাত বলেন, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা সেনা এবং বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব ক্ষেপণাস্ত্রকে ভূপাতিত করে।

কিয়েভের উপর থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয় বলে টেলিগ্রামের এক পোস্টে জানিয়েছেন কিয়েভের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সি কুলেবা।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে আবারো বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজানো শুরু হলে ইউক্রেনের বাসিন্দারা ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

পরে দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ মোবাইল ফোনে একটি সতর্কবার্তা পাঠায় যেখানে বলা হয়, “ইউক্রেনে আজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আপনার নিরাপত্তার জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে থাকুন। বিমান হামলার সতর্কতা ভঙ্গ করবেন না।”

ইউক্রেনের জাপোরিশা শহরের কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরটির বেশ কিছু অবকাঠামোতে রাতভর রাশিয়া গুলি চালিয়েছে। এতে একটি স্কুল, একটি হাসপাতাল এবং আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে টেলিগ্রামে সেন্ট্রাল ভিনিৎসিয়া এলাকা গভর্নর সেরহি বরজভ দাবি করেন, সেখানকার লেডিজিন পাওয়ার স্টেশনে ইরানে তৈরি শাহিদ-১৩৬ কামিকেজ ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

ভোরে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঁচটি শাহিদ-১৩৬ কামিকেজ ড্রোনকে ভূপাতিত করেছে। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের অপারেশনাল কমান্ড বলেন, ওডেসা এলাকাতে আরো তিনটি ড্রোনকে ভূপাতিত করা হয়েছে।

ভলোদিমির জেলেনস্কি এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে টেলিফোনে আলাপ করেছেন। সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব এবং ইউক্রেনের সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

এদিকে রাশিয়ার হামলার কারণে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর, জেলেনস্কি স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাসিন্দাদের জন্য “কাপড় ধোয়া ও ইস্ত্রি করা” থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপর চাপ কমানো যায় এবং এই বিদ্যুৎ অন্যরা ব্যবহারের সুযোগ পান।

হামলার পর ইউক্রেনের সেতুগুলো অন্ধকারে ডুবে যায় এবং কিয়েভে রাস্তার আলো কমিয়ে আনা হয়। এই সময়ে ওডেসা এবং অন্যান্য শহরগুলি তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল।

ইউক্রেনীয় শক্তি সংস্থা কিয়েভ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তাদের “দৃঢ় সমর্থন”-এর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে যে, তারা নিয়মিত শরতের দিনের তুলনায় ২৬.৫% কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে।

সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং জনপ্রিয় ফেসবুক ব্লগার সার্জ মার্কো, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলাকে “কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং অপরিকল্পিত ব্যবহার” বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, রাশিয়ানদের উজ্জীবিত করার যে প্রাথমিক উদ্দেশ্য এটি করা হয়েছে তাতে এটি কোন পরিবর্তন আনবে না।

টেলিগ্রামে সামরিক বিশেষজ্ঞ ওলেক্সান্ডার কোভালেঙ্কো বলেছেন যে, এটি পুতিনের শাসনামলের “রক্তক্ষরণ ও খিঁচুনির মতো মনে হলেও এটা আসলে মৃত্যুযন্ত্রণার মতো।”