খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : পোল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। এতে দুইজনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে।

এ হামলা কি সরাসরি পোল্যান্ডে নাকি ইউক্রেনে আঘাত হানতে চাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডে গিয়ে পড়েছে? ইউক্রেন সীমান্তে পোল্যান্ডের গ্রামে রাশিয়ায় তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজনের মৃত্যু হওয়ার পর এই প্রশ্নগুলি উঠেছে। তবে রাশিয়া জানিয়েছে, তারা ওই ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে কিছুই জানে না। ইউক্রেনও বলেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র-হামলা করেনি। এই অবস্থায় অ্যামেরিকা-সহ ইউরোপের দেশগুলি পোল্যান্ডের পাশে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেন সীমান্তের কাছে পোল্যান্ডে গিয়ে পড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুইজনের মৃত্যু হয়।

এরপরই পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জরুরি বৈঠক ডাকেন। তিনি প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংকটজনক পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল।

এরপরই পোল্যান্ডের সেনাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সতর্ক করে দেয়া হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এটা মিথ্যা প্রচার। রাশিয়া ওই এলাকায় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র-হামলা করেনি। ফলে এর দায় নেয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। মস্কোর দাবি, এই প্রচার ইচ্ছে করে উসকানি দেয়া ছাড়া আর কিছু নয়।

পরে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেন, তার কাছে এই ব্যাপারে কোনো তথ্যই নেই।

ইউক্রেন জানিয়েছে, তাদের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডে গিয়ে পড়েনি। এ নিয়ে মিথ্যা রটনা চলছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াই পোল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র-হামলা করেছে। তিনি জানিয়েছেন, ”আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই আশঙ্কা করছিলাম। সন্ত্রাস কেবল আমাদের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাড়বে। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডে আঘাত করেছে। ন্যটোর দেশে গিয়ে পড়েছে। অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।”

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ডুডা ফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে কথা বলেন। বাইডেন তাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে পোল্যান্ড যে তদন্ত করবে, তাতে অ্যামেরিকা পূর্ণ সাহায্য করবে।

ন্যাটো প্রধান স্টলটেনবার্গের সঙ্গে বাইডেন কথা বলেছেন। বুধবার ন্যাটোর জরুরি বৈঠক হতে পারে।

পোল্যান্ডে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের খবর আসার পর জি২০ বৈঠকের ফাঁকে একবার আলোচনায় বসেছেন ন্যটো দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানরা। বুধবার ন্যাটো জরুরি বৈঠকে বসতে পারে।

ন্যাটো চুক্তির পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, এই গোষ্ঠীর কোনো দেশ আক্রান্ত হলে যৌথভাবে তার মোকাবিলা করা হবে। তবে ন্যাটো কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে দেখা হবে, এই ক্ষেপণাস্ত্র-হামলা কি ইচ্ছাকৃত, নাকি, অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা?

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক জানিয়েছেন, তিনি ব্রিটেনের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। আন্তর্জাতিকক্ষেত্রে সহযোগী দেশের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি এই ক্ষেপণাস্ত্র-হামলার নিন্দা করেছেন।

জার্মানির চ্যান্সেলর শলৎস পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জার্মানি এই সময় পোল্যান্ডের পাশে আছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র-হামলার নিন্দা করছে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সবাইকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন সংযত থাকতে হবে ও সতর্ক থাকতে হবে।