খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : রাশিয়া এবং মলদোভার বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউক্রেনকে দায়ী করেছে মস্কো। যদিও ইউক্রেন এ হামলার কথা অস্বীকার করছে। – বিবিসি

খবরে বলা হয়, রাশিয়ার তিনটি ইউক্রেন-সীমান্তবর্তী প্রদেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বেলগোরদ শহরের মেয়র বলেছেন, ইউক্রেন সীমান্তের ১২ মাইল ভেতরে স্টারাইয়া-নেলিদভকা নামে একটি গ্রামের কাছে একটি অস্ত্রের ডিপোর ওপর বুধবার ভোরে আক্রমণ হয়। আক্রমণের পর ডিপোটিতে আগুন ধরে যায় তবে এখন আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে কোন বেসামরিক লোক আহত হননি বলে জানিয়েছেন মেয়র ভিয়াশেস্লাভ গ্লাদকভ। এই বেলগোরদে রাশিয়া দুটি স্বল্প-পাল্লার ইসকান্দার-এম ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম মোতায়েন করেছে বলেও জানা গেছে।

এসব আক্রমণ ইউক্রেনের ভেতর থেকে চালানো হয়েছে কিনা তা স্বীকার করেননি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সহকারী মিখাইলো পোডোলিয়াক।

তবে তিনি বলেন, একটি দেশ যখন আরেকটি দেশকে আক্রমণ করে তখন কখনো না কখনো তার দায় শোধ করতে হয়।

ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্ত-বরাবর মলদোভার বিচ্ছিন্নতাবাদী ট্রান্সনিস্ট্রিয়া অঞ্চলে অনেকগুলো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ট্রান্সনিস্ট্রিয়া অঞ্চলটি ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে এবং সেখানে ১,৫০০ রুশ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।

এই অঞ্চলটিতে গত কয়েকদিনে বেশ কিছু আক্রমণের ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ বলছে, বড় অস্ত্রের গুদাম আছে এমন একটি গ্রাম, রেডিও টাওয়ার, এবং সেনা ইউনিটের ওপর এসব আক্রমণ চালানো হয়।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এখানে ইউক্রেনের ভেতর থেকে ওড়ানো ড্রোনও পাওয়া গেছে।

ট্রান্সনিস্ট্রিয়ার রুশ-সমর্থিত সরকার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলের ভেতরে গুলিবর্ষণ করার অভিযোগ আনে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, রুশ বিশেষ বাহিনীই এসব আক্রমণের পেছনে আছে । কিয়েভ বলছে, এসব আক্রমণের ঘটনা রাশিয়াই সাজিয়েছে – যার লক্ষ্য হচ্ছে ওই অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করা।

মস্কো বলছে, তারা এসব ঘটনা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস কোম্পানি গ্যাজপ্রম পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। রাশিয়া বলছে, এ দেশগুলোর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেবার কারণ হলো তারা রুশ মুদ্রা রুবলে গ্যাসের দাম পরিশোধ করতে অস্বীকার করেছিল।

ইইউ দেশগুলোর মধ্যে পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়াই হচ্ছে প্রথম দেশ- যাদের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হলো। দুটি দেশই রাশিয়ার গ্যাসের ওপর বিপুলভাবে নির্ভরশীল।

এর পর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে “ব্ল্যাকমেইলের” অভিযোগ এনেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লাইন একে, “অগ্রহণযোগ্য এবং অযৌক্তিক” বলে বর্ণনা করেছেন।

পোলিশ প্রধানমন্ত্রী মাতিউজ মোরাভিস্কি অভিযোগ করেছেন যে রাশিয়া তার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ নিচ্ছে। বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিরিল পেটকভ একে একটি চলমান চুক্তির গুরুতর লংঘন বলে বর্ণনা করেন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর পর বলেছে যে তারা বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের খোঁজ করছে।

গত মাসে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রুবলের দাম পড়তে থাকার মুখে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ঘোষণা করেছিলেন যে সকল রুশ জ্বালানির ক্রেতাকে এর মূল্য পরিশোধ রুশ মুদ্রা রুবলে করতে হবে।

ইতোমধ্যে অন্য আরো কিছু ইইউ দেশ রুবলে রাশিয়ান গ্যাসের দাম পরিশোধ করতে অস্বীকার করেছে, তবে সেসব দেশে সরবরাহ এখনো অব্যাহত আছে।

এর মধ্যে আছে অস্ট্রিয়া ও জার্মানি । অস্ট্রিয়ার ৮৯ শতাংশ গ্যাস আসে রাশিয়া থেকে । অন্যদিকে জার্মানিও গত সপ্তাহে বলেছে, বর্তমানে তাদের গ্যাস সরবরাহ নিরাপদ থাকার গ্যারান্টি আছে।

ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র হাঙ্গেরিই প্রস্তাব দিয়েছে যে তারা রুশ গ্যাসের মূল্য রুবলে পরিশোধ করবে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নিন্দা করতে অস্বীকার করেছেন।

ইইউ সম্প্রতি স্বীকার করে যে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা রাশিয়ার গ্যাসের পেছনে কমপক্ষে ৩৫০০ কোটি ইউরো খরচ করেছে।

এতে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠেছে যে ইইউ যে যুদ্ধ থামানোর জন্য চেষ্টা করার কথা বলছে – রাশিয়ার গ্যাস কেনার মাধ্যমে সেই যুদ্ধকেই তারা পরোক্ষভাবে অর্থায়ন করছে কীনা।

পোল্যান্ডে রাশিয়া যে গ্যাস পাঠায় তা আসে ইয়ামাল পাইপলাইন দিয়ে যা গেছে বেলারুসের ভেতর দিয়ে এবং রাশিয়া খুব সহজেই সেই গ্যাসের প্রবাহ আটকে দিতে পারে।