খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের বার্তা নিয়ে মুসলিমদের দরজায় কড়া নাড়ছে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৪ এপ্রিল বুধবার অথবা ১৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার থেকে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সিয়াম সাধনা শুরু করবেন।

রোজা

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম রোজা। ইমান, নামাজ ও জাকাতের পরই রোজার স্থান। আরবি ভাষায় রোজাকে ‘সাওম’ বলা হয়। যার আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা।

শরিয়তের পরিভাষায় সাওম বলা হয় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার নিয়তে পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও রোজা ভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকাকে।

সুতরাং রমজানের চাঁদ উদিত হলে প্রত্যেক সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর ওপর পূর্ণ রমজানের রোজা রাখা ফরজ। আল্লাহ বলেন- ‘হে ইমানদারগণ তোমাদের ওপর (রমজানের) রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে করে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)।

নবী কারিম (সা.) বলেন- ‘যে ব্যক্তি ইমানসহ সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ইমানসহ সওয়াবের আশায় কিয়ামে রমজান অর্থাৎ তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গোনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে।

আর যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় শবেকদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে তারও পূর্ববর্তী গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারি শরিফ ১/২৫৫, মুসলিম শরিফ ১/২৫৯, মেশকাত শরিফ ১/১৭৩)।

রোজার ফজিলত

মহানবী সা. বলেন- ‘রোজার প্রতিদান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিজেই দেবেন এবং বিনা হিসাবে দেবেন।’ [বুখারি শরিফ হাদিস ১৮৯৪]। আল্লাহতায়ালা রোজাদারকে কেয়ামতের দিন পানি পান করাবেন। [মুসনাদে বাযযার হাদিস : ১০৩৯]। ‘রোজা হলো জান্নাত লাভের পথ’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২৩৩২৪]।

‘রোজা জাহান্নাম হতে রক্ষাকারী ঢাল ও দুর্গ’। [মুসনাদে আহমদ হাদিস, ১৪৬৬৯]। ‘রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের চেয়েও সুগন্ধিযুক্ত। [বুখারি হাদিস-১৯০৪]। রোজাদারের দুটি আনন্দঘন মুহূর্ত। ১. ইফতারের সময় ২. যখন সে তার রবের সঙ্গে মিলিত হবে। [বুখারি হাদিস ১৯০৪]।

এ ছাড়া আরও অনেক হাদিসে রোজার বিশেষ ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে।

রমজান মাসের উত্তম আমল

১. সূর্য ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা। ২. খেজুর দ্বারা ইফতার করা, না থাকলে পানি দ্বারা ইফতার করবে। ৩. যে জিনিসের মাধ্যমে ইফতার করবে তা বিজোড় হওয়া। ৪. ইফতার করার সময় কুরআন-সুন্নাহ থেকে বর্ণিত দোয়া পড়া। যেমন : আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ারহামনি। ৫. সেহরির সময় অল্প করে হলেও কিছু খাওয়া। ৬. সেহরি এত দেরিতে না করা যে, সুবহে সাদিক হওয়ার আশঙ্কা হয়। ৭. সব ধরনের অনর্থক কথাবার্তা থেকে জবানকে হেফাজত করা এবং সব ধরনের হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা। যেমন গিবত, চোখলখোরি, মিথ্যা বলা ইত্যাদি। ৮. আত্মীয়স্বজন, মুখাপেক্ষী, এতিম, গরিব, মিসকিনকে দান-সদকা করা। ৯. ইলম অর্জনে লিপ্ত থাকা, কুরআন মাজিদের তিলাওয়াত করা, দরুদ শরিফ পড়া, ইস্তিগফার করা, জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের জন্য দোয়া করতে থাকা। সর্বদা আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকা। ১০. ইতিকাফ করা। [মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা ২৮/২৮-২৯]। – সংগৃহীত