মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : আষাঢ়ের খরায় পানিশূন্য রংপুরের খাল-বিল। বিপাকে পড়েছে পাটচাষীরা। তীব্র তাপদাহ, গরমে স্থানীয় নদ-নদী খাল বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে পাট পানিতে ডুবিয়ে রাখা/ পঁচাতে না পাড়ায় (স্থানীয় ভাষায় পাট জাগ দেওয়া) নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন স্থানীয় পাটচাষিরা। গত বছরে পাটের অধিক দাম থাকায় এ বছর রংপুরে পাটের চাষ হয়েছে ব্যাপক। কিন্তু পানির অভাবে উপযুক্ত সময়ে পাট কাটতে না পারায় খেতেই পাট শুকিয়ে যাওয়াতে ফলন হ্রাসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পাটচাষিরা।

আষাঢ় মাসের বর্ষার ভরা মৌসুমে বৃষ্টির পানির অভাবে বিপাকে পড়েছে এ অঞ্চলের পাটচাষিরা। খাল-বিল নদ-নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দিতে পারছে না কৃষক। একদিকে যেমন মাঠের পাট কাটতে পারছে না, অন্যদিকে পাট না কাটার ফলে সেসব জমি খালি করে আমন ধানের জমি তৈরি করতে পারছেন না তারা। এতে সময় মত পাট জাগ দিতে না পারলে পাটের ন্যায্যমূল্য এবং সময়মত ধান রোপন করতে না পারলেও ধানের উৎপাদন কমে যাওয়াসহ কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের দোলা পাড়া গ্রামের কৃষক সাদেক মিয়া (৫০) বলেন, পানির অভাবে পাট পঁচাতে না পেরে জটিল সমস্যায় পড়েছি। অনেক কৃষক দিনমজুর বা পরিবহনের মাধ্যমে দূরে নদীতে নিয়ে গিয়ে পাট পঁচাচ্ছেন। আশপাশের খাল-বিলে পানি নেই। এ বছর ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। অর্ধেক জমির পাট কেটে ফেলে রেখেছি।’পাটের ভালো ফলন হলেও পানির অভাবে জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় বলে জানান তিনি।

সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের ধাপের হাট এলাকার কৃষক দুলাল মিয়া (৪০) বলেন, হামার এলাকাত পাট চাষ খুব ভালো হইছে। এবছরেও পাট চাষে খুশি বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন,পাট চাষ করতে নানান সমস্যায় পড়তে হয়। তারপরেও পাট চাষে ব্যাপক মুনাফা আসে। তবে এবছর সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় ডোবাগুলো শুকিয়ে গেছে। ফলে পাট পঁচাতে না পেরে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় শেষ নেই।

৩নং চন্দনপাট ইউনিয়নের চন্দনপাট গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রাসেল মিয়া (৪৫) বলেন, মাঠের পাট কেটে একটি ডোবায় জাগ দিয়েছিলাম, তখন পানি ছিল এক হাটু। ভাবছিলাম বৃষ্টি হয়ে পানি বেশি হবে। কিন্তু বৃষ্টি না আসায় তার পাটের জাগ শুকনায় পড়ছে।তাছাড়াও আমার আরো ২বিঘা জমির ক্ষেতের পাট মরে যাচ্ছে। পানির অভাবে পাট কাটতে পারছিনা,বৃষ্টি না হলে ক্ষেতের পাট ক্ষেতেই মরে যাবে।

৩নং চন্দনপাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন,প্রচন্ড খরা ও তাপদাহের কারণে খাল বিল নদ-নদীতে পানি নেই। তবে আমরা এসব খালবিলে কি ভাবে পানির ব্যবস্থা করা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি এবং দ্রুত পানির ব্যাবস্থা করা হবে। আমার ইউনিয়নে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাট চাষ হয়েছে। এবছর বৃষ্টির পানির অভাবে লোকসান গুনতে হতে পারে পাট চাষিদের।

রংপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে কৃষকরা পাট পঁচাতে না পারলে অন্য উপায়ে ও পাট পঁচানো যায়, পাটের ছাল ছিঁড়ে প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে মাটিতে গর্ত খুঁড়ে স্বল্প পানি দিয়ে পাট পঁচানো যায়। আমরা (রিবন রোটিং) পদ্ধতিতে পাট পঁচানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। এছাড়াও উন্নতজাতের পাট চাষেও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।