ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পূর্ববাজারে অবস্থিত শাহেন শাহ হোটেলে ভাংচুর, লুটপাটসহ মালিক ও তার মাকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হোটেলটির সত্ত্বাধিকারী উপজেলার সোহাগপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জিল্লুর রহমানের ছেলে শাহেন শাহ বাদী হয়ে সৎ মা, সৎ ভাই ও সৎ মামার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

গত ৫ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারি অপরাধ দমন (দ্রুত বিচার) আদালতে মামলাটি দায়ের করা হলে বিজ্ঞ আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিগত বিশ বছর ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জিল্লুর রহমানের ছেলে শাহেন শাহ আশুগঞ্জ পূর্ববাজারে অবস্থিত পৈত্রিক ভিটিতে নিজ নামে খাবার হোটেল দিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর অন্যান্য সম্পদের পাশাপাশি শাহেন শাহ হোটেলের ভিটিটিও তার প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষে পরিবারের মাঝে ভাগ করে দেন স্থানীয় সালিশকারকগণ। ফলে হোটেল ভিটির মাঝখানে ইটের দেয়াল নির্মাণ করা হয় পারষ্পারিক সমঝোতার ভিত্তিতেই। কিন্তু সালিশের কিছুদিন যেতে না যেতেই শাহেন শাহর সৎ ভাই, মা ও মামা মিলে পুরো ভিটিটি অবৈধভাবে দখল করে নেয়ার ফন্দি করতে থাকে।

২০০৭ সালে উপজেলার কলাবাগান এলাকার অন্য একটি জায়গা প্রথম পক্ষের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম ও ছেলে শাহেন শাহ জিল্লুর রহমানের অছিয়ত অনুযায়ী আদালতের রায়ে স্বত্ববান হন। এতে দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে রোহান মিয়া ও স্ত্রী জুয়েনা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং শাহেন শাহ হোটেল দখল করে নেয়াসহ তাদের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

এ ব্যাপারে শাহেন শাহ আশুগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরিও করে রেখেছিলেন (জিডি নং৫৭৭/২১)। কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ এপ্রিল রাতে রোহান তার মামা ছোটন মিয়া ও মা জুয়েনা বেগমকে নিয়ে মাঝের দেয়াল ভেঙ্গে হোটেলের মালামাল বের করে নিয়ে যায় এবং হোটেলটি জবরদখল করে নেয়ার চেষ্টা চালায়।

খবর পেয়ে শাহেন শাহ ও তার মা হোসনে আরা বেগম ছুটে গেলে আসামীরা মা-ছেলেকে পিটিয়ে মারত্মকভাবে আহত করে। পরে শাহেন শাহ আদালতে মামলা করলে ১৪৪ ধারা জারি করছে।

শাহেন শাহ জানান, তিনি বৈধ উত্তরাধিকার সূত্রে হোটেল ভিটির অর্ধেক মালিক। তিনি ১৪৪ ধারার পাশাপাশি দ্রুতবিচার আইনে মামলা করেছেন। বন্দরের ব্যবসায়ীসহ উপজেলাবাসীর জনপ্রিয় হোটেল শাহেন শাহ দখলমুক্ত করে চালু করতে এবং সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের বিচারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।

তবে দ্বিতীয় পক্ষের রোহান মিয়া বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তহীন। আমরাতো সবদিক থেকেই পৈত্রিক সম্পত্তির ওয়ারিশ।