পুলিশের টিয়ার শেল-শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ, আটক ৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : আশুগঞ্জে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা গায়ে লাগা নিয়ে কথা কাটাকাটি ও সিএনজি ভাংচুরের জের ধরে দু‘ল গ্রামবাসীর মধ্যে দু‘দফা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। এসময় কয়েকটি বাড়ি-ঘর-দোকানপাট ভাংচুর করা হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে এবং শনিবার সকালে আশুগঞ্জের দুর্গাপুর গ্রামের জারুর গোষ্ঠি (রাসেল চেয়ারম্যানের গোষ্ঠি) এবং বারঘরিয়া (মিজান মেম্বারের গোষ্ঠি) গোষ্ঠির লোকজনের মধ্যে দু‘দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে অন্তত ২০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে বেলা দেড়টার দিকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করেছে।

জানা গেছে, সংঘর্ষে গুরতর আহতদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ও অন্যদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষ থামলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে পৌছে বিবদামান গোষ্ঠির নেতৃবৃন্দকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বারঘরিয়া গোষ্ঠির মুন্সি বাড়িতে ওয়াজ মাহফিল হয়। এতে রাস্তা প্রায় বন্ধ ও রাস্তার উপর কিছু দোকানপাট বসে। এ রাস্তায় জারুর বাড়ির মোঃ কুতুব মিয়ার ছেলে মোঃ রুহুল আমিন সিএনসি নিয়ে যেতে চাইলে একজনের গায়ে লাগে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। রুহল আমিনকে মারধর ও তার সিএনজির কাচ ভাংচুর করে বারঘরিয়া গোষ্ঠির লোকজন। রুহুল আমিন বাড়িতে এসে তার বাড়ির লোকজনকে জানালে তারা রাস্তায় দাড়িয়ে বারঘরিয়া গোষ্ঠির দুটি সিএনজি আটক করে।

এদিকে বারঘরিয়া গোষ্ঠির সিএনজি ফেরত ও বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে দুর্গাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ রাসেল মিয়া তার পরিষদের সদস্য বারঘরিয়া গোষ্ঠির মোঃ মিজান মিয়াকে বাড়িতে ডেকে আনেন। মিজান মেম্বার রাসেল চেয়ারম্যানের বাড়িতে এলে চেয়ারম্যানের সামনেই জারুর গোষ্ঠির লোকজন তাকে পিটিয়ে আহত করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বারঘরিয়া গোষ্ঠির লোকজন দেশীয় দা-বল্লম নিয়ে জারুর গোষ্ঠির লোকজনের উপর হামলা করলে জারুর গোষ্ঠির লোকজনও পাল্টা হামলা করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু পরদিন শনিবার সকাল ১১টার দিকে আবার উভয় গোষ্ঠির লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় আড়াই ঘন্টা ব্যাপী এ সংঘর্ষে দুর্গাপুর গ্রামের অন্যান্য গোষ্ঠির লোকজন জারু গোষ্ঠি ও বারঘরিয়ার গোষ্ঠির দলে বিভক্ত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আজাদ রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মেতায়েন করা হয়েছে।