৪০টি দোকান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বার পক্ষের ফের সংঘষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এ সময় প্রায় ৪০টি দোকান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে গায়ে সিএনজির ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার এবং শনিবার আশুগঞ্জের দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল মিয়া এবং ইউপি সদস্য মিজান মিয়ার গোষ্ঠির লোকজনের মধ্যে দু‘দফায় সংঘর্ষ হয়।

এই ঘটনার জের ধরে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের গোষ্ঠীর লোকজন বুধবার সকালে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এরমধ্যে মিজান মেম্বারের গোষ্ঠীর একজনকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় স্থানীয় বাজারের ১৩টি দোকানে অগ্নিসংযোগসহ আরো প্রায় ২৭টি বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর করা হয়। পরে দমকল বাহিনীর সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আশুগঞ্জ ফায়ারসার্ভিসের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান জানান, অগ্নিকান্ডের খবরে আমরা সেখানে গিয়েছি। মুদি, ফার্মেসিসহ বিভিন্ন প্রকার ১৩টি দোকান অগ্নিকান্ডে পুড়ে গেছে। আমাদের সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের দমকল বাহিনীর দল অংশ গ্রহণ করে।

এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) জয়নাল আবেদীন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আশুগঞ্জ থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার আশুগঞ্জ উপজেলা সদরের রেলগেইট থেকে স্কুল ছাত্র রিমন সিএনজি করে দূর্গাপুর গ্রামে আসেন। এসময় সিএসজি চালক রহুল আমিন ২০টাকার স্থলে অতিরিক্ত ১০ টাকা বেশি ৩০ টাকা ভাড়া দাবি করেন। এ সময় কথাকাটির এক পর্যায়ে স্কুল ছাত্র রিমনের গায়ে সিএনজি ধাক্কা লাগলে ঘটনা আরো বেড়ে যায়। এ সময় রিমনকে মারধর করে সিএনজি চালক রুহুল আমিন। পরবর্তীতে স্কুল ছাত্র রিমন বিষয়টি তাদের গোষ্ঠীর নেতা মিজান মেম্বারকে অবগত করে।

মিজান মেম্বার বিষয়টি সিএনজি চালক রহুল আমিনের গোষ্ঠীর নেতা দূর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল মিয়াকে জানাতে তার বাড়িতে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানের লোকজন মিজান মিয়া মেম্বারের উপর হামলা চালায়। এই খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে মিজান মেম্বারের গোষ্ঠী ও চেয়ারম্যানের গোষ্ঠীর লোকজন সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। এ ঘটনার জের ধরে আবার এর পরদিন শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আবারও দুই গোষ্ঠীর লোকজন দফায় দফায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। দুপুর একটা পর্যন্ত চলা সংর্ঘষে আহত হয় আরও ৩০ জন। এই সময় সংর্ঘষটি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। উভয়পক্ষের সাথে গ্রামের অন্য গোষ্ঠীগুলো বিভক্ত হয়ে সংর্ঘষে লিপ্ত হয়ে পড়ে।

বুধবার সকাল ৮ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত দু‘পক্ষের সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। মিজান মেম্বারের পক্ষে মোল্লাবাড়ি, হাজী ইউসূফ পাড়া ও শরিয়ত উল্লাহ পাড়া এবং চেয়ারম্যানের গোষ্ঠীর পক্ষে নজর বাড়ি, মুন্সিবাড়ি, বামুমুন্সির বাড়ি ও নূরারপাড় বাড়ি লোকজন অংশ গ্রহন করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে সংর্ঘষ নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই বিষয়ে জানতে দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাসেল মিয়া ও ইউপি সদস্য মিজান মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।