কক্সবাজার অফিস : আমি মসজিদের ছাদ থেকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যার পুরো ঘটনা দেখেছি, এই ঘটনার জন্য ওসি প্রদীপসহ সব আসামীর সম্পৃক্তা রয়েছে।’

সিনহা হত্যার চলমান সাক্ষ্যগ্রহনের দ্বিতীয়দফার শেষদিনে আজ বুধবার আদালতে এমন জবানবন্দি দিয়েছেন সিনহা হত্যাকান্ডস্থলের নিকটবর্তী বায়তুর নুর জামে মসজিদের ইমাম মৌলভী শহীদুল ইসলাম। তিনি হত্যাকান্ডের ষষ্ঠ প্রত্যক্ষ সাক্ষী। পরে তাঁকে জেরা করেন আসামীপক্ষের আইনজীবীরা।

আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করে আদেশ দেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী বায়তুল নূর জামে মসজিদের ইমাম শহীদুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে আজকের ও দ্বিতীয় দফার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

আগামী ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় মসজিদের ইমাম শহীদুল ইসলাম মসজিদের ছাদ থেকে দেখা পুরো ঘটনা আদালতের কাছে তুলে ধরেছেন। এতে আমরা সন্তুষ্ট।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত বলেন, ‘আমরা সাক্ষীকে জেরা করেছি।সাক্ষী মসজিদের দোতলা থেকে ঘটনা দেখেছেন বলে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে তার অবস্থান ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে ছিল এবং মাঝখানে অনেক গাছ রয়েছে। তাই সাক্ষী ঘটনাস্থল থেকে কিছু দেখেছেন বলে মনে হয়নি।’

গত বছরের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় সে সময় সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লিয়াকত আলীকে।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি এবং রামু থানায় আরেকটি মামলা করে। এরপর মেজর সিনহা হত্যার ছয় দিন পর লিয়াকত আলী ও ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

পরে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টে ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনকারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

গত ২৪ জুন মামলার অন্য পলাতক আসামি টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আসামিদের মধ্যে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া অন্য ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিম‚লক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্ত শেষে গত বছর ১৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন র‌্যাব ১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত ২৭ জুন আদালত ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এতে সাক্ষী করা হয় ৮৩ জনকে।