মোঃ রফিকুল ইসলাম, গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিস্কারের একদিন পর নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি পুন:বিবেচনার জন্য আকুতি জানিয়েছেন।

মেয়র জাহাঙ্গীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভুল তথ্য গেছে, আংশিক তথ্য দিয়েছে। তাকে ভুল বোঝানো হয়েছে। আমি আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়েছিলাম আমার কথা শোনার জন্য। যদি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কথাগুলো বলতে পারতাম তাহলে তিনি সঠিক বিষয়টি জানতেন। তার কাছে সঠিক তথ্য গেলে অবশ্যই ন্যায় বিচার পেতাম। ‘

শনিবার দুপুরে গাছা থানাধীন হারিকেন এলাকার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ‘আমার ভুল হতে পারে, কিন্তু আমি কোনো পাপ বা অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত না।’

তিনি আরো বলেন, আমাকে তিন বছরের জন্য পদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাকে বহিষ্কার করে আমার পরিবার এবং আমার অস্তিত্বের মধ্যে যে আঘাত দেওয়া হয়েছে তা আমি মানসিকভাবে মেনে নিতে পারছি না। আমি কোনো অন্যায় করিনি। আমার ভুল হতে পারে। ভুলের জন্য আমি ক্ষমা চাই। প্রধানমন্ত্রী যেন বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করেন। আমি রিভিউ করতে চাই। আমি আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে থাকতে চাই। পদ দিক আর না দিক তাতে কিছু যায় আসে না। প্রধানমন্ত্রী আমার মায়ের মতো। তিনি আমার আদর্শের জায়গা। আমাকে যেন আবার পুনরায় বিবেচনা করেন, শহর গড়ার কাজে সহযোগিতা করেন যেখানে ৪০ লাখ লোকের বসবাস।

মেয়র আরো বলেন, প্রয়োজনে আমি আত্মসমর্পণ করবো। আমাকে যেন অন্য কোনো মিথ্যা কিছুতে জড়ানো না হয়। আমাকে ফাঁসি দিক আমার নেত্রীর জন্য, বঙ্গবন্ধুর জন্য। কিন্তু আমাকে মিথ্যা অপবাদ যেন না দেওয়া হয়।

যদি মনে হয় আমাকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন আমাকে বলবেন, আমি আত্মসমর্পণ করবো।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের এক অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়। সেই অডিওতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে তাকে কটুক্তি মন্তব্য করতে শোনা যায়।

অডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গাজীপুরে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দলীয়শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় জাহাঙ্গীর আলমকে আজীবন আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত হয়।