আবুল কাশেম, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : শাহজাদপুুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ ছাত্রের চুল কাটার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবীতে ৩য় দিনের মত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার পৌর এলাকার শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে দিনভর বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা । পাশাপাশি একই দাবীতে একাডেমিক ভবনের মূল ফটকে চলছে আমরণ অনশন।

অনশনে অংশ গ্রহণকারী হাবিবুর রহমান হাবিব, জাকারিয়া জিহাদ, আমিনুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলাম সিরাত নামের ৪ শিক্ষার্থীকে অসুস্থাবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল এন্ড হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত ২দিন ধরে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আমরণ অনশন চললেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কেউই তাদের খোঁজ-খবর নিতে আসেননি।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রাপ্ত চিকিৎসক থাকলেও শুধুমাত্র একটি এ্যাম্বুলেন্স ও একজন নার্স ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার ৩য় দিনেও ছাত্র-ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ করেছে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, নাজমুল হাসান পাপন, আবু জাফর হোসাইন, শামীম হোসেন, নোমান সিদ্দিকী শান্ত প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, এখন আর ৪ দফা নয় আমাদের একটাই দাবী অবিলম্বে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরণ অনশনের ৪৮ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের খোঁজ-খবর নিতে আসেননি।

তারা দুঃখ ও ক্ষোভের সাথে আরও জানান, অনশনরত অবস্থায় আমাদের মৃত্যু হলেও কর্তৃপক্ষের কী টনক নড়বে না? এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পৌর এলাকার কান্দাপাড়া মহল্লার প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় ও সিসি ক্যামেরা ভাঙ্চুর করে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছাত্রদের চুল কাটার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এ ধরনের যদি কিছু ঘটেও থাকে তবে ছাত্ররা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ না করে আমার বিরুদ্ধে কেন আন্দোলনে গেল বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে, গতকাল দুপুরে সাংবাদিকরা মোবাইল ফোনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার মোঃ সোহরাব আলী সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমারা এতক্ষণ প্রশাসন ভবনে অবরুদ্ধ ছিলাম, কিছুক্ষনের মধ্যে ক্যাম্পাসে আসবো। কিন্তু গণমাধ্যম কর্মীরা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করলেও তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেননি।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলনের বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনের ডেপুটি ডাইরেক্টর মোঃ রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উর্ধŸতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন ছাত্রদের চুল কেটে দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও উদ্বেগের।

উল্লেখ্য, গত রোববার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করার সময় ওই বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন কাঁচি দিয়ে ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেন।

এ ঘটনার পর থেকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সকল পরীক্ষা বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের মুল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে লাগাতার বিক্ষোভ-সমাবেশ ও আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছে।