খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : এ বছরের জনপ্রিয় সংগীত প্রতিযোগিতা ‘জি বাংলা সা রে গা মা পা’র বিজয়ী ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ সেরা প্রতিযোগীর জয় হয়নি- কিছু মানুষের এমন অভিযোগ থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত৷

জিবাংলা চ্যানেলের জনপ্রিয় সংগীত প্রতিযোগিতা সা রে গা মা পা-তে এবার জয়ী হয়েছেন অর্কদীপ মিশ্র৷ রোববার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সোশাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড়৷ দর্শকদের একাংশের মত, বিচারকরা, মূলত সংগীত পরিচালক ও প্রতিযোগিতার বিচারক জয় সরকার টাকার বিনিময়ে অযোগ্য প্রতিযোগীকে জিতিয়েছেন৷ তাদের বক্তব্য, অর্কদীপ নয়, নীহারিকা নাথই ছিলেন জয়ের যোগ্য৷

রোববার ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই ফেসবুকজুড়ে উঠেছে মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যের ঝড়৷ কেউ কেউ মনে করছেন, অর্কদীপ শুধু লোকসংগীতের শিল্পী, তাই তিনি বিজয়ী হতে পারেন না৷ শুধু তাই নয়, অভিযোগের আঙুল উঠছে জি বাংলা কর্তৃপক্ষের দিকেও৷ বলা হচ্ছে, এ ‘দুর্নীতিতে’ তারাও জড়িত৷

প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগীত শিল্পী ইমন চক্রবর্তী৷ তার গুরুকুলেরই সদস্য অর্কদীপ৷ ফেসবুক লাইভে ইমন বলেন, ‘‘নীহারিকা প্রথম হলেই যে অভিযোগ থেমে যেতো, তা নয়৷ তখন বলা হতো, অর্কদীপ কেন প্রথম হলো না? আপনাদের এই অভিযোগ চলতেই থাকবে৷’’ বিচারক জয় সরকারও বলেছেন, ‘‘চূড়ান্ত পর্বের ছ’জনকে সমান ধরেই আমরা বিচার করেছি৷ আর সবাই আগেও বলেছিলেন যে অবিচার হচ্ছে৷ দিন এগিয়েছে, ট্রল বেড়েছে৷ তারও তো ফিনালের দরকার ছিল!’’

বিজয়ী অর্কদীপ মিশ্র গোটা প্রতিযোগিতায় তার গাওয়া বিভিন্ন ধরনের গানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘লোকগান গাইলে কি প্রতিযোগিতায় সেরা হওয়া যায় না? এটা আগে জানলে তো সারেগামাপার পুরষ্কার ফিরিয়ে দিতাম৷’’

সারেগামাপা’র ফলাফল ঘোষণা ও ট্রল-বন্যার প্রেক্ষিতে সংগীত দুনিয়ার বহু গুণীজন জানিয়েছেন প্রতিক্রিয়া৷ সংগীত শিল্পী লোপামুদ্রা মিত্রের প্রশ্ন, ‘‘যে ছেলেটি প্রথম হয়েছে, তার কী দোষ? তার ওপর কতটা মানসিক চাপ পড়ছে, তা ভেবে দেখছেন? প্রথম হয়ে সে ফাঁসির আসামী?’’ মনোময় ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘গুরু হিসেবে আমি ও বাকিরা কিন্তু বিচারকদের কোনোভাবেই প্রভাবিত করেননি৷ আমি যেমন মনে করি, ‘যুগ্ম সেরা’ বাছা যেতেই পারতো৷’’

শুধু সারেগামাপা’র সাথে যুক্ত শিল্পীরাই নন, সামাজিক গণমাধ্যমে অর্কদীপসহ প্রতিযোগিতার সাথে জড়িতদের যেভাবে হয়রানি করা হচ্ছে তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পী রূপঙ্কর বাগচী, স্নিগ্ধজিৎ ভৌমিকসহ অনেকে৷ জি বাংলা সা রে গা মা পা’র সাবেক প্রতিযোগী স্নিগ্ধজিৎ ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, টাকার বিনিময়ে বিজয়ী ঘোষণার ধারণাটি অমূলক, জি বাংলা বরং শিল্পীদের টাকা দিয়ে সহায়তা করে৷

এর আগের বিতর্ক : জি বাংলা চ্যানেলের ‘সা রে গা মা পা’-র হাত ধরেই বাঙালি সংগীতপ্রেমীদের নজরে আসেন বাংলাদেশের কন্ঠশিল্পী মইনুল আহসান নোবেল৷ প্রতিযোগিতা শেষে নোবেল পান তৃতীয় স্থান৷ নোবেল তা মানতে পারেননি৷ বিচারকদের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তার অনুরাগীদের এক অংশ৷ কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত নিয়ে প্রশ্ন তুলেও বিতর্কে জড়ান নোবেল৷

২০১৮ সালের ‘সা রে গা মা পা’-য় একটি বিশেষ পর্বে প্রয়াত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে শ্রদ্ধা জানাতে মঞ্চে আসেন সংগীতশিল্পীরা৷ সবার মাঝে মধ্যমণি হয়ে আইয়ুব বাচ্চুর ‘রুপালি গিটার’ গানটি ধরেন বাংলাদেশের তরুণ গায়ক, নোবেল৷ বিতর্ক শুরু হয় সেই অনুষ্ঠানে আইয়ুব বাচ্চুর নামের বানান ভুল লেখার কারণে৷ সোশাল মিডিয়ায় দুই বাংলার মানুষই প্রবল সমালোচনা করেন ওই ভুলের৷ তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে