খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্পের ফলে ভূমিধস ও বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে৷ আহত হয়েছে আরো অন্তত ১৫০০ জন৷

প্রায় ৫০০ কিলোমিটার জুড়ে ভূমিকম্প টের পাওয়া গেছে। পাকিস্তানেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

আফগানিস্তানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

পার্বত্য অঞ্চলে কয়েকটি গ্রাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে।

মার্কিন জিওলজক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল আফগানিস্তানের খোস্ত শহর থেকে ৪৪ কিলোমিটার দূরে। মাটির নীচে ৫১ কিলোমিটার গভীরে কম্পন হয়। রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ছয় দশমিক এক।

ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় ৫০০ কিলোমিটার জুড়ে কম্পন অনুভূত হয়েছে। আফগানিস্তানের একাধিক প্রদেশ, পাকিস্তান এবং ভারতের সামান্য অংশে কম্পন হয়েছে।

সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আফগানিস্তানে এখনো পর্যন্ত এক হাজার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আহতের সংখ্যাও বাড়ছে। এখনো পর্যন্ত ১৫০০ মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আফগানিস্তানের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

আফগানিস্তানের পাকতিকা অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। সেখানে অন্তত ২৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা দুইশ-র বেশি। তালেবান সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম হক্কানি জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। পার্বত্য অঞ্চলে সর্বত্র এখনো যাওয়া যাচ্ছে না। নানগরহরেও বেশ কিছু মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আয়ুবি জানিয়েছেন, হেলিকপ্টার নিয়ে গিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। তবে এখনো সর্বত্র পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ২০০২ সালের পর এটাই আফগানিস্তানে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বিরাট।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসলামাবাদেও হাল্কা কম্পন হয়েছে। তবে লাহোর, মুলতান, কোয়েটায় ভূমিকম্পের তীব্রতা ভালো ছিল। কম্পন অনুভূত হওয়ার পর সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েন। তবে পাকিস্তান থেকে এখনো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর আসেনি। গত শুক্রবারই ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়েছিল। রিখটার স্কেলে যার তীব্রতা ছিল পাঁচ। আফগানিস্তানে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প এটি৷