মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পিতা বাদি হয়ে আদিতমারী থানায় ১০, জনের নাম উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সন) এর মামলা নং(০৩)ধারা- ০৭/৩০, দঃ বিঃ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহৃত ঐ ছাত্রীকে অপহরণে সহযোগিতা করার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে। অপহৃত ঐ ছাত্রীকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারে নাই পুলিশ। ১নং আসামিসহ মামলার বাকি নয়জন আসামি এখনো রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বর্তমানে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসামিরা ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ সহ হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার সাপটিবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম দৈলজোড় গ্রামে।
অপহরণের শিকার মেয়েটি পাশের মুসর দৈলজোড় উচ্চঃ বিদ্যালয় আদিতমারী এর নবম শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ইং সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রতিবেশী অনাথ চন্দ্রের বাড়িতে যায় এবং সেখানে কিছু সময় কথা বলে বাড়িতে ফেরার পথে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ওই ছাত্রী অপহরণের শিকার হয়। পড়ে বিভিন্ন জায়গায় ঐ ছাত্রীকে খোঁজাখুজি করতে থাকে তার পরিবার।

স্থানীয় প্রতিবেশি রবিন্দ্র নাথ রায় পিতা- মহেন্দ্র নাথ ও অনাথ চন্দ্র পিতা- শরৎচন্দ্র বর্ম্মন এবং শ্যামল চন্দ্র বর্ম্মন পিতা-জ্ঞান চন্দ্র বর্ম্মন জানায় যে, সন্ধ্যা ৭টার সময় ঐ স্কুলছাত্রীকে সংশ্লিষ্ট থানাধীন মুুসর দৈলজোড় (নারিয়ার বাজার) গ্রামের মোঃ মন্ঞ্জু মিয়ার পুত্র বখাটে মোঃ মনির হোশেন (চিকা) এবং মামলার এজাহারে উল্লেখিত সকল আসামিগণ মিলে ব্যাটারি চালিত অটোযোগে জোড়পূর্বক অপহরণ করিয়া ভেলা বাড়ি হতে লালমনিরহাট পাকা রাস্তা দিয়া যাইতে দেখেছে।

এরপর গত ২ জানুয়ারী ২০২৩ আদিতমাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন ছাত্রীর পিতা। মামলায় সাপটিবাড়ী ইউনিয়নের মুুসর দৈলজোড়(নারিয়ার বাজার) গ্রামের মোঃ মন্ঞ্জু মিয়ার পুত্র বখাটে মোঃ মনির হোশেন (চিকা), সারপুকুর (চাওড়াটারী গ্রামের মন্ঞ্জু মিয়ার পুত্র বিপুল,পারভীন বেগম স্বামী রহমত আলী, সহ রহমত আলী,আইয়ুব আলী,করামত আলী, আব্দুল করিম মিয়া, নুর-ইসলাম, সবিয়ার রহমান, ইকরামুল হক,ও আব্দুল কুদ্দুস সহ ১০, জনের নামে থানায় মামলা করা হয়।

পুলিশ এখন পর্যন্ত অপহরণের শিকার ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পারে নাই। তবে অপহরণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তিনজন- নবিয়ার, একরামু ও আঃ কুদ্দুসকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠান। পড়ে আদালত থেকে কেরামত আলী ও আনোয়ারসহ ৫ জন জামিনে মুক্তি পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা হুমকি-ধামকি সহ মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন এতে ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে পড়েছে। তাদের দাবি মামলার মূল ৫ আসামীকে গ্রেপ্তার ও অপহরণের শিকার ঐ ছাত্রীকে উদ্ধার না হওয়ার নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে পড়েছে বলে দাবি তাদের।

মামলার বাদি এজাহারে উল্লেখ করেন, মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যরা তাঁর মেয়েকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে প্রায় সময়ই উত্ত্যক্ত করতো এবং কুপ্রস্তাব দিতো। এক পর্যায়ে তারা মেয়েটিকে প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা জানায়, আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের। কি করে হিন্দু সম্প্রদায় হয়ে একজন মুসলিম পরিবারে কন্যা সম্পাদন করি। আমাদের জাত, কুল, মান-সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে। অসহায় পরিবারের দাবি, এখন পর্যন্ত মামলার প্রধান আসামি সহ অন্যান্য আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আসামিদের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তারা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। তাদের দাবি যত দ্রুত সম্ভব অপহৃত ওই ছাত্রীকে উদ্ধার ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অপর আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনির ও তার পিতা মঞ্জু মিয়ার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের কোন সাড়া পাওয়া যায় নাই।

রোববার (২২ জানুয়ারি) সকালে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোক্তারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বাদির অভিযোগ পেয়ে অপহরণের মামলা গ্রহণ করেছি। বিভিন্ন জায়গায় একাধিক অভিযান চালিয়ে এখন এ পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। ভিকটিমকে উদ্ধারে তৎপর রয়েছি। প্রধান আসামিসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।