কাজী খলিলুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : দক্ষিণাঞ্চলের এহেসান গ্রুপের ন্যয় ঝালকাঠি শহরের ব্যাবসায়ীদের নিয়ে কথিত সমিতি খুলে কয়েকশত গ্রাহকের সঞ্চয়কৃত ২৮ লাখ টাকা নিয়ে আসাদুজ্জামান জামাল ও সুমন তালুকদার নামে দুই কর্তকর্তা আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কুমারপট্টি ‘আদর্শ ব্যবসায়ী বহুমূখী সমবায় সমিতি লিঃ’ নামে প্রতিষ্ঠানের এই কর্মকর্তাদ্বয় সদস্যদের না জানিয়ে রাতারাতি সমিতির সকল কাগজপত্র সরিয়ে ফেলে অফিসের মালামালও ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

এ অবস্থায় দুই বছর ধরে ভূক্তভুগী গ্রাহকরা তাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলে তারা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করছে। বর্তমানে তারা এ লুটপাট ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা হালাল করতে রাজনৈতিক দল ও প্রভাবশালী দু’এক নেতার শেল্টার নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও অসহায় গ্রহকরা ভয়ে মুখ খুললে পারছে না। সম্প্রতি ভূক্তোভুগীদের মধ্যে ১৩ জন গ্রাহক তাদের পাওনা টাকা ফিরে পেতে বরিশাল র‌্যাবের অধিনায়ক, দূর্নীতি দমন কমিশন-দুদক, ঝালকাঠি পুলিশ সুপার ও অফিসার ইনচার্জ বরাবরে আইনী সহায়তার জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে ও ভূক্তভূগীদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, আয়শা কসমেটিকসের মালিক আসাদুজ্জামান জামাল ও রজিয়া কসমেটিকসের মালিক সুমন তালুকদার স্থানীয় শতাধিক ব্যবসায়ীকে নিয়ে ‘কুমারপট্টি আদর্শ ব্যবসায়ী বহুমূখী সমবায় সমিতি লিঃ’ নামে একটি সঞ্চয় ও ঋণ দান কর্মসূচীর চালু করে। উপজেলা সমবায় সমিতির অধীনে রেজি:নং-ঝাল/১০ নিবন্ধন নিয়ে কুমারপট্টি ‘তুতন প্লাজা’ মার্কেটে সমিতির কার্যালয় নিয়ে ঢাক-ডোল পিটিয়ে কয়েকশ গ্রাহকের কাছ থেকে সঞ্চয় গ্রহন শুরু করে।

অভিযোগে আরো জানা গেছে, তবে সুকৌশলে সমিতির আর্থিক লেনদেন ও লোনদানের ক্ষমতা রাখে জামাল ও সুমনের হাতে। এভাবে সমিতির আসাদুজ্জামান জামাল ও সুমন তালুকদার গ্রাহকদের কাছ থেকে উত্তোলনকৃত সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে তাঁরা নিজেদের ব্যবসা-বানিজ্য ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুললেও গ্রাহকরা তাঁদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান জামাল ও সুমন তালুকদার নানা প্রকার তালবাহানা শুরু করে। এ চক্রটি তাদের খেলাপী লোন গৃহীতার কাছ থেকে গ্রাহকদের টাকা আদায় করে নিতে বলে এবং ক্ষমতাশীন দলের প্রভাব বিস্তার করতে থাকে।

এ অবস্থায় অভিযোগকারীদের মধ্যে টুটুল বনিক ৬০ হাজার, জাফর ইকবাল ২২ হাজার, লতিফ মুন্সি ৩৯ হাজার, রাজিবুল ইসলাম বারেক ৫২ হাজার, হারুন সরদার ৫০ হাজার, বাহাদুর সরদার ৫০ হাজার, মো. শাহ আলম মিয়া ৩৭ হাজার, মিজানুর রহমান ১ লাখ ১৭ হাজার, গৌতম বনিক ৩৮ হাজার, রতন লাল বনিক ৩৮ হাজার, খালিদ ১ লাখ, আল আমিন ৪৫ হাজার ও স্বপন দাস ১৩ হাজার ৪শ টাকাসহ ৬ লাখ ৬১ হাজার ৪০০ টাকা পাওনা রয়েছে। এ ছাড়াও অনেক গ্রাহকের ৫-১০হাজার টাকার সঞ্চয় জমা থাকলে তাদের ভয়ে কোথাও অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান জামাল ও সুমন তালুকদার বলেন, গ্রাহকদের বেশ কিছু টাকা দিতে না পারার কথা স্বীকার করলেও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী সমিতি থেকে ঋণ গ্রহণ করে ফিরিয়ে না দেয়ায় কিছু গ্রাহকের সঞ্চয়ের টাকা ফেরৎ দিতে পারিনি। সব হিসাব সমিতির রেজিষ্ট্রার খাতায় আছে সেখানে আমাদের আত্মসাতের প্রশ্নই আসে না।

এ ব্যাপারে বরিশাল র‌্যাবের অধিনায়ক মেজর জাহাঙ্গির হোসেন জানান, অভিযোগের বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন আমাদের দপ্তরে এসেছে। অপরাধী যেই হোক দ্রুত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একই বিষয়ে ঝালকাঠি থানার সেকেন্ড অফিসার গৌতম চন্দ্র অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বাদি-বিবাদি উভয় পক্ষের জবানবন্দি গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।