আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার আদমদীঘির ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কক্ষে অনাধিকার প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে গ্রামপুলিশকে মারপিট ও ভাঙচুর ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ইউপি সচিব কুদরত-এ-এলাহী বাদি হয়ে ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক তুষার আহম্মেদসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকাল ৩টায় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব তার কক্ষে কাজ করছিলেন। এ সময় সেখানে গ্রাম পুলিশ আয়েন উদ্দীন চয়েন উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা তুষার একদল যুবককে সাথে নিয়ে ওই কক্ষে অনাধিকার প্রবেশ করে গ্রামপুলিশকে এলোপাতাড়ী মারপিট করতে থাকে। এ সময় সচিব তাদের বাঁধা দিলে তাকেও মারপিঠ করার জন্য উদ্দত হলে তিনি দৌঁড়ে চেয়ারম্যান কক্ষে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় কক্ষের ভেতর থাকা একটি প্রিন্টার, একটি কম্পিউটার, দুইটি কাঠের চেয়ার, সাতটি প্লাস্টিকের চেয়ার ও একটি কাঠের আলমারীর পাল্লা ভাংচুর করে সরকারী গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিটিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া আলমারির মধ্যে থাকা ১ লাখ ৬১ হাজার ১৫০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

আহত গ্রামপুলিশকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ইউপি সচিব কুদরত-এ-এলাহী বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় রাফির মামাতো ভাই ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক তুষার আহম্মেদ, রাফি, মারুফ, ফারুক, রিপন, রাকিব, শিহাব, বিপ্লব, মীম, আনিছুর, শাকিল, হিরকসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ১২-১৩ জনকে আসামী করা হয়েছে।

এদিকে আহত রাফির বাবা আশরাফুল সরকার মুঠোফোনে জানান, আহত রাফির শরীরের তিন জায়গায় প্রায় ৭০টি শেলাই দেয়া হয়েছে। ছুরিকাঘাতে হাতের অংশে ব্যপক ক্ষত হওয়ার কারনে তার অবস্থা গুরুত্বর। দুপুরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাফির হাতের অপারেশন শুরু হয়।

আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।