নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা আগাম আলু ক্ষেত পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আর অল্প কয়েক দিনের মধ্যে নতুন আলু উত্তোলন শুরু হবে এই উপজেলায় বলে জানান কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি বিভাগের সূত্র মতে, এ বছর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আগাম জাতের আলুর আবাদ হয়েছে ছয় হাজার পাঁচ শত হেক্টর জমিতে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখন আলু গাছের সবুজ পাতার রঙে মুখরিত ফসলের মাঠ। প্রতিটি মাঠে এখন শুধু সবুজ রঙের চোখ ধাঁধাঁলো বর্ণীল সমারোহ। কৃষাণ-কৃষাণীর ব্যস্ততা এখন ক্ষেত পরিচর্যায়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা কেউ কেউ আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ, সেচ, ছত্রাক রোগ-বালাইয়ের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে কীটনাশক স্প্রে সহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত।

কৃষকরা জানায়, আগাম আলুর বাজার ধরার আশায় আশ্বিন মাসে প্রথম সপ্তাহ থেকে আলু রোপণে মাঠে কোমর বেঁধে নেমে পড়েন। কিন্তু আশ্বিনা বৃষ্টিপাত সে স্বপ্ন ভঙ্গ করে দেয়। পরে দ্বিতীয় দফায় আলু রোপণ করার পর শীত কম পড়ায় ও কুয়াশা না থাকায় আলু গাছে বাম্পার ফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে বাজার দর ঠিক থাকলে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে জানান তারা।

উপজেলার নিতাই গাংবের আলুচাষি আশেক উদ-দৌলা, আতিকুল, দুরাকুটি পশ্চিম পাড়ার শামীম হোসেন বাবু, মোস্তফা কামাল বলেন, এ বছর আগাম আলু চাষ করতে গিয়ে বিড়ম্বনার পড়তে হয়েছে। বৃষ্টিতে আলু পচে যাওয়ায় দ্বিতীয়বার জমিতে আলু রোপণ করতে হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ব্যয় হয়েছে ২৫ থেকে ৩০হাজার টাকা। আশা করছি ১৫-২০ দিনের মধ্যে নতুন আলু বাজারে তোলা যাবে। সঠিক বাজার মূল্য না পেলে এবার কৃষকরা লোকশানের মুখে পড়ব বলে জানান তারা।

উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন,মৌসুমের শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আগাম আলুর সামান্য ক্ষতি হলেও বাজারে ভালো দাম পেলে সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে কৃষকরা।