ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন নাগরিক সমন্বয় সেলের নেতৃবৃন্দ আইনের যে কোন সংশোধনীর অনভিপ্রেত ও অপ্রয়োজনীয় উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। কোন সংশোধনীর প্রস্তাব থাকলে অবশ্যই তা ভূক্তভোগী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থাসমূহের সাথে আগাম আলোচনা করতে হবে। অন্যথায় তা জাতির কাছে কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না।

তারা বলেন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১ অনুযায়ী আপীল ট্রাইব্যুনাল থেকে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণের রায় হবার পর সম্পত্তি দ্রুত অবমুক্ত করা সময়ের দাবী।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১ অনুযায়ী আপীল ট্রাইব্যুনাল থেকে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পনের রায় হবার পর অর্পিত সম্পত্তি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়ে গতকাল অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন নাগরিক সমন্বয় সেলের সচিবালায়ে এক জরুরী সভার আয়োজন করা হয়। ভূমিমন্ত্রীর বক্তব্যে সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত অর্পিত সম্পত্তির অবমুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এড. সুলতানা কামাল, নারী নেত্রী ও নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং এইচ.ডি.আর.সি’র অবৈতনিক উপদেষ্টা ড. আবুল বারাকাত, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক এড. রাণা দাশগুপ্ত, বøাস্টের আইন উপদেষ্টা এড. এস এম রেজাউল করিম, সামাজিক আন্দোলনের এড. তরারক হোসাইন, অর্পিত সম্পত্তি প্রতিরোধ আন্দোলনের এড. সুব্রত চৌধুরী এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ, এবং এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।

সভায় বলা হয় গত ১৬ নভেম্বর, ২০২১ তারিখ জাতীয় দৈনিকে এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ভূমিমন্ত্রী জনাব সাইফুজ্জামান চৌধুরী অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, ‘এখন আইনটির একটু সংশোধনী লাগবে। এ নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে’।

মামলার রায় হবার পর সম্পত্তি অবমুক্ত করা যেখানে এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবী সেখানে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর এই ধরণের বক্তব্য গভীর উদ্বেগের ও বিস্ময় সৃষ্টিকারী। এর আগে একাধিকবার এই আইনটির সংশোধনীর প্রস্তাবের নামে এক শ্রেণীর অসৎ আমলা আইনের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করার প্রয়াস চালিয়েছেন। সেই প্রয়াস বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে বিরক্তি প্রকাশ এবং উদ্যোক্তাদের তিরস্কার করতে হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে আমরা তা জেনেছি।

সর্বশেষে ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের কয়েকটি সংশোধনী পাস হওয়ার মাধ্যমে অর্পিত সম্পত্তির ‘খ’ তফসিল বাতিল করা হয় এবং ‘ক’ তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হয়। মামলার নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনাল ও আপীল ট্রাইব্যুনালে ত্বরান্বিত হলেও এক শ্রেণীর দুর্নীতিপরায়ণ প্রশাসনের কারণে এখনো অর্পিত সম্পত্তি আইন ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ সংখ্যালঘু পরিবার অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনে প্রত্যাশিত প্রতিকার পায়নি। আপীল ট্রাইব্যুনাল থেকে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পনের রায় দেয়া হলেও অধিকাংশ জেলা প্রশাসক তা বাস্তবায়ন করছেন না। যদিও আইনে এই রায় কার্যকরের জন্য ৪৫ দিনের সময়সীমা বেধে দেয়া আছে। এছাড়াও হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে যে, আপীল ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

অথচ ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের নিয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল, অর্পিত সম্পত্তি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু প্রায় তিন বছর হতে চলল। অর্পিত সম্পত্তি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া এখন শপথ হয়ে গেছে। প্রায় ১৩ বছর ধরে কাজ করা অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন নাগরিক সমন্বয় সেলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯ বছরে ২১ জেলার অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে আসা আবেদনের ১০ শতাংশ সম্পত্তিও অবমুক্ত হয়নি।