খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। কারণ আপনারা ব্যর্থ। এই মুহূর্তে পদত্যাগ করে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন দিয়ে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নতুন সংসদ ও সরকার গঠন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, লড়াই শুরু হয়েছে। এ লড়াই আমাদের প্রাণের লড়াই, বেঁচে থাকার লড়াই এবং দেশ রক্ষার লড়াই। দেশের ১৮ কোটি মানুষের বাঁচার লড়াই। রাজপথের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অবশ্যই এই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারকে সরাব।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ উদ্যোগে ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের লোডশেডিং, গণপরিবহণের ভাড়া বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোলায় পুলিশের গুলিতে নুরে আলম ও আব্দুর রহিমের হত্যার প্রতিবাদে’ এই সমাবেশ হয়।

সাম্প্রতিককালের মধ্যে ঢাকা মহানগরে এই প্রথম বড় সমাবেশ করেছে বিএনপি। এতে ঢাকা মহানগরীসহ ঢাকা জেলা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও আশপাশের আরো কয়েকটি জেলা থেকে দলের নেতাকর্মীরা যোগ দেন।

সমাবেশের জন্য দলীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। সকাল থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

নাইটিংগেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত দুই পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হয়।

এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। সমাবেশে আসার পথে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়া ও তাদের আটক করা হয়েছে বলে বিএনপি অভিযোগ করেছে। পুলিশ বাসে বাসে তল্লাশি চালিয়ে রাজধানীর বাইরে থেকে আসা বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।

সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি অব্যাহতভাবে চলবে বলে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোববার জেলা পর্যায়ে সমাবেশ আছে। এরপর আগামী ২২ আগস্ট থেকে সব উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে আমরা ছড়িয়ে পড়ব।

তিনি বলেন, সমাবেশের আকাশে ড্রোন ওড়ানো হচ্ছে। সরকার ইরান থেকে ২১টি ড্রোন আমদানি করেছে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের মনিটরিং করতে নয়, যারা গণতন্ত্র চায় তাদের মনিটরিং করতে এসব আনা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু ও উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, জয়নাল আবেদীন, আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, আফরোজা খান রিতা, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ দলের ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম যেভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে, এক লাফে এভাবে বাড়ানোর নজির পৃথিবীর কোথাও নেই।

মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশটাকে দেউলিয়ার পথে নিয়ে গেছে, দেশটা দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশ কারও ভাষণে স্বাধীন হয়নি। এ দেশ স্বাধীন হয়েছে যুদ্ধের মাধ্যমে। এই দেশ কারো পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। এ দেশের মালিক জনগণ। জনগণ তাদের মালিকানা বুঝে নেবে।