খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : দক্ষিণ ইউক্রেনের অধিকৃত খেরসনের কিছু এলাকা থেকে বেসামরিক লোকদের বের করে নিয়ে যাবার এক পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খেরসন হচ্ছে একমাত্র বড় ইউক্রেনীয় শহর যা রুশ বাহিনী ফেব্রুয়ারী মাসে তাদের অভিযান শুরুর পর দখল করতে পেরেছিল। ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন এই বন্দরনগরীটির দিকে এগিয়ে আসছে।

আর এরই প্রেক্ষাপটে কমপক্ষে ৭০,০০০ লোককে ইতোমধ্যেই শহরটি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার খবর বেরোয় যে রুশ সৈন্যরাও খেরসন ছেড়ে চলে যাচ্ছে – যা সত্যি হলে তা হবে এক গুরুত্বপূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের দৃষ্টান্ত।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলছেন, বেসামরিক লোকদের যুদ্ধের কবলে পড়া উচিত নয় এবং বিপজ্জনক এলাকায় বসবাসরত মানুষদের উচিত সেখান থেকে চলে যাওয়া।

ইউক্রেন অভিযোগ করেছে যে, বেসামরিক লোকদের জোরপূর্বক বের করে নেয়া হচ্ছে- যা যুদ্ধাপরাধের শামিল। তবে মস্কো জোর খাটানোর কথা অস্বীকার করেছে।

তবে এখন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আক্রমণের কবলে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা খেরসনের বেসামরিক লোকদের সরিয়ে নিয়ে যাবার পরিকল্পনা প্রকাশ্যেই অনুমোদন করেছেন।

খেরসনে মস্কো-সমর্থিত প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা কিরিল স্ট্রেমুসভ রুশ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন যে মস্কো হয়তো এই এলাকাটি থেকে তার সৈন্যদের প্রত্যাহার করে নিতে পারে।

তবে এ খবরের ব্যাপারে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলছেন, এটা তাদের সৈন্যদেরকে বিপজ্জনক এলাকায় নিয়ে যাবার একটা ফাঁদ হতে পারে।

এদিকে, ইউক্রেনের অধিকৃত দোনেৎস্ক অঞ্চলে রুশ-সমর্থিত আদালতের একজন বিচারককে গুলি করা হয়েছে এবং তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। ধারণা করা হয় যে এটা ছিল একটি হত্যাপ্রচেষ্টা ।

এই বিচারকের নাম আলেকজান্ডার নিকুলিন, যিনি স্বঘোষিত দোনেৎস্ক গণপ্রজাতন্ত্রে রুশ সমর্থিত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ছিলেন।

ইউক্রেন সেনাবাহিনীর হয়ে লড়াই করার সময় আটক দুজন ব্রিটিশ এবং একজন মরোক্কান নাগরিককে তিনি মৃত্যুদণ্ড দেন জুন মাসে। পরে বন্দী বিনিময়ের সময় এই তিন ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হয়।

সম্প্রতি মস্কো-সমর্থক কর্তৃপক্ষের হয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের ওপর বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং বেশ কয়েকজনকে হত্যাও করা হয়েছে। – বিবিসি